রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সংঘর্ষের পর মিরপুর ও ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এ ঘটনায় যাঁদের সম্পৃক্ততা থাকবে না, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। বাকিরা আইনের আওতায় আসবেন।’

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মার্কেটের দোকানি শরিফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সিটি করপোরেশনের ভেকু মার্কেটের সীমানার ভেতরে ভাঙচুর করার সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। তাঁর দোকানসহ পাঁচটি দোকান পুড়ে গেছে। দোকানে থাকা নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা ও অলংকারও পুড়ে যায়।

আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বরের সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সময় টিভির একজন প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। মুক্তকণ্ঠের একজন আলোকচিত্রীর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সমকালের এক আলোকচিত্রীকেও মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। একপর্যায়ে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে হবে।