পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান আবারও তলব পেয়েছেন। এক মাস ধরে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)-র কাছে জব্দ করা তার ফোন ফেরত পাওয়ার জন্য চিঠি দেওয়ার ঠিক একদিন পরই এই তলব আসে। আগামী ২ অক্টোবর ফরেনসিক পরীক্ষায় সহযোগিতার জন্য সশরীরে হাজির হতে বলেছে সংস্থাটি।

এনসিসিআইএ-র প্রকাশিত এক পাতার নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর বেলা ৩টায় লাহোরের সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং সেন্টারে হাজির হতে হবে রিজওয়ানকে। প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (পিইসিএ), ২০১৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় চলমান তদন্তে জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষায় তার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এটি হবে এনসিসিআইএ-র সামনে রিজওয়ানের দ্বিতীয় উপস্থিতি; গত ১০ সেপ্টেম্বরও তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত মাসে ইংল্যান্ড সফরের সময়। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর লন্ডনে রিজওয়ানের ফোন জব্দ করা হয়। আদালতে আবেদনের মাধ্যমে রিজওয়ান দাবি করেছিলেন, গভীর রাতে হোটেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে ফোন নেওয়া হয় এবং তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো ফোনটি এনসিসিআইএ-র কাছেই রয়েছে।

নতুন তলবের ঠিক আগেই রিজওয়ান এনসিসিআইএ-কে দ্বিতীয় চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি তদন্তের ধরন পরিষ্কার করার এবং ফোন ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। সেখানে তার বক্তব্য ছিল, এখনো লিখিতভাবে জানানো হয়নি ঠিক কোন বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। রিজওয়ানের দাবি, ফোন নেওয়ার সময়ই তিনি পাসওয়ার্ড দিয়েছিলেন এবং কর্মকর্তারা তার উপস্থিতিতে সেটির তথ্য পরীক্ষা করেছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর এনসিসিআইএ-র কার্যালয়ে হাজির হওয়ার সময়ও তদন্তকারীরা তার আনলক করা ফোনের বার্তা ও অন্যান্য তথ্য দেখেছেন।

তবে নতুন নোটিশে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২ অক্টোবর সশরীরে হাজির হয়ে ফরেনসিক পরীক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। উপস্থিত না হলে আত্মপক্ষ সমর্থনে তার আর কিছু বলার নেই বলে ধরে নেওয়া হতে পারে।

বিভিন্ন পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এই তদন্তকে অনলাইন বেটিং ও জুয়া এবং পাকিস্তান দলের ড্রেসিংরুম থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে। একই তদন্তে ইমাম-উল-হকের ফোনও জব্দ করা হয়েছিল। তবে রিজওয়ান বা ইমামের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অপরাধ প্রমাণের ঘোষণা দেয়নি এনসিসিআইএ।