ব্যাংকিং খাতের টালমাটাল পরিস্থিতি সত্ত্বেও এসবিএসি ব্যাংক গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুল কবীর জানান, ব্যাংকের নামেই ‘অ্যাগ্রিকালচার ও কমার্স’ যুক্ত থাকায় কৃষি ও বাণিজ্য খাতে তাদের অঙ্গীকার বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, "এসবিএসি ব্যাংক ‘সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক’ নামে যাত্রা শুরু করে। যদিও বর্তমানে এই নামের সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যাংকটি কার্যক্রম চালাচ্ছে।"

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কৃষির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যাংক কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, সেচ ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গুরুত্ব দিয়ে অর্থায়ন করছে। মোট ঋণের ৫০ ভাগ এসএমই খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা যায়।

প্রান্তিক কৃষক ও কৃষি-উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, "প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো তাদের তেমন কোনো প্রস্তুতি থাকে না। ব্যাংকারদের একটি ঋণ প্রস্তাব তৈরি করতে হয়। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত জামানত, প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সাক্ষরতার অভাব এবং ব্যাংকিং সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্বের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।" এছাড়া কৃষির মৌসুমি প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সহজলভ্য ব্যাংকিং সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরপরই সৃষ্ট নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনায় ব্যাংক সাধ্যমতো গ্রাহকদের ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ অন্যান্য বৈদেশিক বাণিজ্য–সম্পর্কিত সেবা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় বৈদেশিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, গ্রাহকের ব্যবসার ধরন, আর্থিক সক্ষমতা ও লেনদেনের ঝুঁকি বিবেচনায় সহায়তা করা হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ধরে রাখতে ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহায়তা ও আদায় জোরদারকরণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এস এম মঈনুল কবীর বলেন, "এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, বিগত সময়ে ব্যাংকিং খাত বেশ টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এতে নানা ধরনের হস্তক্ষেপ করে টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে।" তবে এসবিএসি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ তুলনামূলক সহনীয় মাত্রায় আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খেলাপি ঋণের হার খুব দ্রুতই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, "আমাদের কাছে গ্রাহকের আমানত শুধু একটি আর্থিক হিসাব নয়, বরং মানুষের সারা জীবনের সঞ্চিত স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের অবলম্বন।" তিনি আরও বলেন, "এই কারণেই আমরা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর করেছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে জানাতে চাই, এসবিএসি ব্যাংকের কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে পারেনি, এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি।" গত ছয় মাসে আমানত সাড়ে ১৩ শ কোটি টাকা বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাংক আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করছে। মোবাইল ওয়ালেট সার্ভিস ‘বাংলাপে’, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’–এর সংযোগ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ‘এসবিএসি ক্লিক’ এবং ইকেওয়াইসি ‘এসবিএসি ফাস্ট’ এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ই-লোন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।