প্রতিষ্ঠার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে নতুন এক পথ তৈরি করে নিয়েছে সিটিজেন্স ব্যাংক পিএলসি। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার পর ১৫ ডিসেম্বর লাইসেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সততা, দলবদ্ধতা, সম্মান, জবাবদিহি ও সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে খেলাপিমুক্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দেশজুড়ে ২২টি শাখা, ৮টি উপশাখা ও ৪টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট গ্রাহকসংখ্যা ৫০ হাজার ৫৫২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে নারী গ্রাহকের হার ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা। মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) বর্তমানে ৩৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
আর্থিক সূচকে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২২ সালে মোট আমানত ছিল ২৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। একই সময়ে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ৯৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ, যা দীর্ঘ সময় শূন্য শতাংশে ছিল। ব্যাংকটি জানিয়েছে, মোট ঋণের ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ করপোরেট খাতে এবং ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এসএমই ও কৃষি খাতে বিতরণ করা হয়েছে।
ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই আধুনিক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ‘ব্যাংকআল্টিমাস’ ব্যবহার করছে সিটিজেন্স ব্যাংক। গ্রাহকদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘সিটিজেন্স ফাস্ট’ মোবাইল অ্যাপ। এছাড়া নিজস্ব কিউআর ও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ক্যাশলেস পেমেন্ট সুবিধা এবং বিইএফটিএন, আরটিজিএস ও এনপিএসবির মতো আন্তব্যাংক লেনদেনের সুবিধা প্রদান করছে তারা।
তথ্য ও আমানতের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের টায়ার-৩ সার্টিফায়েড ডেটা সেন্টারে কোর ব্যাংকিং ও আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিচালনা করছে ব্যাংকটি। এখানে বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ও ফেস রিকগনিশনসহ উচ্চপর্যায়ের ফিজিক্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা রয়েছে। সাইবার হামলা ঠেকাতে অ্যাডভান্সড ফায়ারওয়াল, ডিডিওএস প্রটেকশন এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষ ঋণ সুবিধার কথা উল্লেখ করে ব্যাংকটি জানায়, তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘সিটিজেন্স উদ্যোগ’ এবং কর্মজীবীদের জন্য ‘সিটিজেন্স ইত্যাদি’ নামে লাইফস্টাইল ঋণ চালু করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে সবুজ অর্থায়নের হার ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এছাড়া জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে ২০২৫ সালে ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা আয়কর এবং ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ভ্যাট প্রদান করেছে ব্যাংকটি।
নিরাপদ ব্যাংকিং, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গ্রাহকবান্ধব সেবার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল অবস্থান ধরে রাখাই এখন সিটিজেন্স ব্যাংকের লক্ষ্য।