রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি গ্রামে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মারধর এবং তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর রহমান নামে ওই ব্যক্তি রাজশাহী কলেজ শাখার ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা। তিনি পাশের বাড়ির এক নারীর সঙ্গে গোপনে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর স্বামী ও বড় ছেলে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী; তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই গোপন সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি শুক্রবার রাতে ওই নারীর ছেলের চোখে পড়ে। এ সময় তিনি হাফিজুরকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা হাফিজুরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে, তবে আগুনে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাফিজুর ও ওই নারীর বাড়িতে কেউ নেই। তখনও হাফিজুরের বাড়ির দুই কক্ষে আগুনের ধোঁয়া উঠছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছেন। কেউ বলছেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে ওই নারীর ছেলে হাফিজুরকে কুপিয়ে জখম করেছেন। আবার কেউ বলছেন, জানালা ভেঙে পালানোর সময় আহত হন হাফিজুর।

এলাকার ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নবিউল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "হাফিজুর রহমান রাজশাহী কলেজের ছাত্র থাকার সময় ছাত্রশিবিরের একটি দায়িত্বশীল পদে ছিলেন বলে তিনি জানেন। কিন্তু এলাকায় তিনি রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে থাকেন না। এলাকায় তাঁর সাংগঠনিক কোনো পদও নেই।" হাফিজুর কবে এবং কোন পদে ছিলেন তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি। তিনি আরও জানান, প্রথমে হাফিজুরকে রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।