সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ঢাকা থেকে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে কথিত প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাকে আটক করা হয়নি; তিনি বর্তমানে পলাতক।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের মীরপুর ও ময়নামতি এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ময়নামতি ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে রাজীব আহমেদ (২১) কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে, ঢাকার গুলশানের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ওই কিশোরীর সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

এই সম্পর্কের সূত্র ধরে শুক্রবার ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসেন কিশোরীটি। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজীব তাকে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় রিসিভ করে নেয়। এরপর তাকে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে অভিযুক্ত রাজীব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেন।

বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া মুক্তকণ্ঠকে জানান, "কিশোরীকে অভিযুক্ত রাজীব আহমেদের ছবি দেখানো হলে তিনি তাকে শনাক্ত করেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কিশোরীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "কিশোরীটি ঢাকার গুলশানের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবা-মা নেই এবং প্রাথমিকভাবে তার বাড়ি নরসিংদী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত রাজীবকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"