সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার আজ। এই দিনটি জাতীয় সিঙ্গেলস ডে (National Singles Day) হিসেবে পালিত হয়, যা সম্পর্কে নেই এমন মানুষদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০২৬ সালে সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবারের তারিখ হলো ২৬ সেপ্টেম্বর।

ভ্যালেন্টাইনস ডেতে যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ছবি, ফুল ও উপহারের ছড়াছড়ি দেখা যায়, আজকের দিনটি তার বিপরীত। কেউ ফুল না দিলেও মন খারাপ করার কোনো কারণ নেই। নিজের জন্য কফি বা পছন্দের খাবার নিয়ে ঘরে বসে প্রিয় সিনেমা দেখে দিনটি সুন্দরভাবে কাটানো যায়। এছাড়া, কারও কাছে কোথায় আছেন, কার সঙ্গে আছেন বা রাত জেগে অনলাইনে কেন আছেন—এমন কোনো জবাবদিহি করারও প্রয়োজন নেই।

জাতীয় সিঙ্গেলস ডে মূলত একক বা সম্পর্কে নেই এমন মানুষদের নিজেদের জীবন উদযাপনের একটি উপলক্ষ। দিনটি প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার পালিত হওয়ায় এর নির্দিষ্ট তারিখ পরিবর্তনশীল। যে তারিখে শেষ শনিবার পড়ে, সেই দিনই সিঙ্গেলদের এই বিশেষ দিন হিসেবে গণ্য হয়। এবারের ক্ষেত্রে তা হলো ২৬ সেপ্টেম্বর।

সিঙ্গেল হলেই কি একাকীত্ব? একদমই না। সিঙ্গেল মানেই সারাদিন জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখে দুঃখের গান শোনার নিয়ম নেই। বরং অনেক সিঙ্গেল মানুষ নিজের কাজ, বন্ধু, পরিবার, শখ এবং নিজের সময় নিয়ে বেশ ভালোই আছেন। কেউ হয়তো সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের ইচ্ছামতো নাশতা করছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ সপ্তাহান্তে ঘুরতে বেরিয়েছেন। আর কেউ যদি এখনো বিছানা থেকে ওঠেননি, সেটাও তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

সিঙ্গেলদের জীবনের একটি পরিচিত অভিজ্ঞতা হলো আত্মীয়স্বজনের প্রশ্ন। কবে বিয়ে করবেন? কেউ পছন্দের মানুষ আছে? বয়স তো কম হলো না! এরপর কখনো কখনো আসে আরও ভয়ংকর প্রশ্ন, বিয়ের চিন্তা করছেন না কেন? জাতীয় সিঙ্গেলস ডে অন্তত এক দিনের জন্য এসব প্রশ্ন থেকে মানসিক ছুটি নেওয়ার একটা মজার অজুহাত হতে পারে। অবশ্য আত্মীয়স্বজনের কাছে এই ছুটির অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, সেটি আলাদা বিষয়!

সিঙ্গেল জীবনের কিছু ছোটখাটো সুবিধাও রয়েছে। যেমন, কোথায় ঘুরতে যাবেন তা নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হয় না। রাত জেগে সিনেমা দেখলেও কেউ ঘুমাতে বলবে না। ছুটির দিনে হঠাৎ কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও কাউকে আগে থেকে জানাতে হবে না। আর খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হলো, শেষ পিৎজা স্লাইসটি কার হবে, সেই নিয়ে ঝগড়া করারও কেউ নেই।

তবে এর বিপরীত সমস্যাও আছে। অসুস্থ হলে ওষুধ এনে দেওয়ার মানুষ নেই, ঘরে ফেরার পথে কিছু আনতে ভুললে মনে করিয়ে দেওয়ার মানুষ নেই, আর মন খারাপ হলে নিজের মন নিজেকেই ভালো করতে হয়। তাই সিঙ্গেল জীবন যেমন স্বাধীনতার, তেমনই নিজের যত্ন নেওয়ারও।

জাতীয় সিঙ্গেলস ডে উদযাপন করতে খুব বেশি আয়োজনের দরকার নেই। আজ নিজের পছন্দের খাবার অর্ডার করতে পারেন, প্রিয় কোনো সিনেমা বা ধারাবাহিক দেখতে পারেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন। অনেক দিন কোথাও যাওয়া না হলে একাই ঘুরে আসতে পারেন। আর যদি এসবের কোনোটিই করতে ইচ্ছা না করে, তাহলে সারাদিন ঘুমিয়েও কাটাতে পারেন। আজ অন্তত কেউ বলতে পারবে না যে সিঙ্গেলস ডের নিয়ম ভেঙেছেন!

সম্পর্কে থাকা যেমন জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ, তেমনি সিঙ্গেল থাকাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। জীবনের একটা সময়ে কেউ সম্পর্কে থাকেন, কেউ থাকেন না। কারও জীবনে প্রেম আসে দ্রুত, কারও জীবনে একটু দেরিতে। তাই সিঙ্গেল থাকা নিয়ে অযথা মন খারাপ করারও কারণ নেই। বরং আজকের দিনটিকে নিজের মতো করে কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের খাবার, একটু ঘোরাঘুরি কিংবা দীর্ঘ ঘুম, যা ভালো লাগে তাই করুন।

কারণ আজ সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার। আর ক্যালেন্ডার বলছে, আজ জাতীয় সিঙ্গেলস ডে। সুতরাং সিঙ্গেল হলে আজ একটু গর্ব করে বলতেই পারেন, প্রেম নেই তো কী হয়েছে, আজকের দিনটা অন্তত আমার!