ভোলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে বিশাল ওজনের একটি ব্ল্যাক কার্প ধরা পড়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মাছটি তালতলী (ইলিশা) মাছঘাটে আনার পর এখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরবর্তীতে নিলামে এই মাছটি ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছঘাট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার জেলে মো. সুলতান সরদার আজ দুপুরে জোয়ারের সময় মেঘনা নদীতে জাল ফেলেছিলেন। জাল তোলাকালে বিশাল আকৃতির এই মাছটি তার জালে আটকে যায়। পরে এটি তালতলীর ফকির দালালের আড়তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত আড়তদার ও স্থানীয় ক্রেতারা দর হাঁকতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয় এবং পরে ১৮ জন মিলে তা ভাগ করে নেন।
আড়তদার লোকমান জানান, কয়েক দিন ধরে নদীতে ইলিশের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, ফলে ইলিশের দামও কিছুটা কমেছে। যদি ইলিশের সরবরাহ কম থাকত, তবে ব্ল্যাক কার্পটির দাম আরও বেশি হতে পারত। মাছটি দেখতে লঞ্চঘাট এলাকার যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমেছিল।
জেলে সুলতান সরদারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে নৌকার জেলেরা জানান, "মাছটি জালে উঠতেই সবাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। এত বড় ব্ল্যাক কার্প তাঁরা আগে খুব একটা দেখেননি।"
ভোলা সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছবিটি দেখে মাছটিকে ব্ল্যাক কার্প বলেই মনে হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের দেশীয় মাছ নয়; পূর্ব এশিয়ার, বিশেষ করে চীন অঞ্চলের একটি স্বাদুপানির কার্পজাতীয় মাছ। বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে পুকুরে এর চাষ করা হয়। এ মাছের প্রধান খাদ্য শামুক ও ঝিনুক।
মেহেদী হাসান আরও বলেন, নদীতে প্রাকৃতিক খাদ্য ও অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্ল্যাক কার্প দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ৩০ কেজি বা তারও বেশি ওজনের হতে পারে। পুকুরে সাধারণত ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প বেশি দেখা যায়। বর্ষা বা বন্যার সময় এ ধরনের মাছ নদীতে চলে যেতে পারে।
এই মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, ব্ল্যাক কার্প প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশের নদ-নদীর মাছ নয়। তবে বন্যার পানিতে চাষের পুকুর থেকে বেরিয়ে গিয়ে নদীতে টিকে থাকতে পারলে বড় আকার ধারণ করতে পারে। ভোলার মেঘনায় ধরা পড়া ২৪ কেজির এই ব্ল্যাক কার্প সেই বিরল ঘটনারই একটি উদাহরণ।