জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশি তম অধিবেশনে আজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দেন। তিনি পডিয়ামে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক দেশের প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদ হল ত্যাগ করেন। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ডজন ডজন প্রতিনিধি সে সময় হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। নেতানিয়াহু তাঁদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা এখনো হলে আছেন তাঁরাও চলে যেতে পারেন। পরে হলের অনেক আসন খালি দেখা যায়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আজ জাতিসংঘ ভবনে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় সাধারণ পরিষদ হলে ছিলেন না। দেশটির নির্ধারিত আসন খালি ছিল। দ্য ডেইলি স্টারসহ স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিনিধিদল কমপ্লেক্সে থাকলেও সেই ভাষণের সময় হলে যাননি। হিন্দুস্তান টাইমসসহ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশকে সেই সময় খালি আসন থাকা দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে যে দাবি ছড়ায় যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় হলে বসেছিলেন, সেই দাবি এই তথ্যের সঙ্গে মিলে না।
এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ১৯৭৪ সাল থেকে দেশটির অফিসিয়াল অবস্থান হলো ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমসহ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থন। ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সে কারণে ইসরায়েলি নেতাদের জাতিসংঘ ভাষণের সময় বাংলাদেশ সাধারণত হলে উপস্থিত থাকে না। কখনো প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করে, কখনো ভাষণের সময় হলেই প্রবেশ করে না। এবারও সেই ধারাই দেখা গেছে।
নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে আত্মরক্ষা বলে দাবি করেন এবং গণহত্যার অভিযোগকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ আখ্যা দেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পদক্ষেপকেও ন্যায্য বলে তুলে ধরেন। অনেক দেশ এই বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে সে সময় হলে থাকেনি। ফক্স নিউজসহ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাষণ শুরুর আগে বা শুরুর সময় প্রায় সাতাত্তরটি জাতীয় প্রতিনিধিদল হল ছেড়ে যায়। তবে প্রতিটি দেশের নাম আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এককভাবে নিশ্চিত করেনি। নিশ্চিত বিষয় হলো, ব্যাপক ওয়াকআউট হয়েছে এবং বাংলাদেশ সে সময় হলে উপস্থিত ছিল না।
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপকে নতুন কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখার সুযোগ কম। দেশটি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে একই নীতি অনুসরণ করে আসছে। নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘ ভবনে থেকেও সাধারণ পরিষদ হলে না যাওয়া সেই নীতিরই বাস্তব প্রয়োগ।
বাংলাদেশের বার্তা হলো, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো তার অফিসিয়াল অবস্থান; সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় হলে উপস্থিত থাকা হয়নি।