পৃথিবীর বার্ষিক কক্ষপথ এবং অক্ষের কৌণিক ঢালের কারণেই গ্রহে ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। তবে বছরে দুইবার সূর্য বিষুবরেখার ঠিক ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। একবার এটি মার্চ মাসে (মহাবিষুব) এবং অন্যবার সেপ্টেম্বর মাসে (জলবিষুব) সংঘটিত হয়। লাতিন শব্দ 'ইকুইনক্স'-এর আক্ষরিক অর্থ হলো সমান রাত। সাধারণত সারা বছর পৃথিবী সূর্যের দিকে কিছুটা হেঁয়ে থাকলেও, বিষুবের দিনগুলোতে এটি একদম সোজাসুজি অবস্থানে থাকে। ফলে এই সময়ে সূর্যের আলো উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমানভাবে পড়ে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাত প্রায় সমান দৈর্ঘ্যের হয়।

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখার ঠিক ওপরে লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে পৃথিবীর উভয় গোলার্ধ সমান পরিমাণে সূর্যালোক পাচ্ছে। যদিও আজ দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য নিখুঁতভাবে ১২ ঘণ্টা নয়, তবুও আলো ও অন্ধকারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাধারণত পৃথিবী তার কক্ষপথে সামান্য হেঁয়ে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করায় বছরের বেশিরভাগ সময় উভয় গোলার্ধ সমান তাপ পায় না। কিন্তু বিষুবের সময় পৃথিবীর অক্ষ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে বা দূরে সরে যায়, যার ফলে উভয় গোলার্ধে সমান সূর্যের আলো পৌঁছায়। সেপ্টেম্বর বিষুবের পর থেকে উত্তর গোলার্ধে দিনের আলোর পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আবহাওয়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঋতু গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানগতভাবে ঋতু নির্ভর করে পৃথিবীর গতির ওপর, অন্যদিকে আবহাওয়া বিজ্ঞান তাপমাত্রা চক্রের ভিত্তিতে ঋতু নির্ধারণ করে। বিষুব ছাড়াও বছরের অন্য সময়ে অয়নান্ত বা সলস্টিস ঘটে, যার ফলে দিন সবচেয়ে বড় বা ছোট হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে শীতকালীন অয়নান্তের মাধ্যমে উত্তর গোলার্ধে শীতকালের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। মহাজাগতিক এই নিয়মগুলো পৃথিবীর জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: নিউজ ১৮ ও ফিজ ডটঅর্গ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস