বঙ্গোপসাগরের সোনারচর সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে চার দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ১৮ জন জেলে। উত্তাল সমুদ্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলারটি আটকা পড়ায় মাঝিসহ জেলেদের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঘটনায় তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তারা অতি দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

আটকে থাকা ১৮ জেলের সবাই চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ট্রলারটির মালিক হাজারীগঞ্জ এলাকার মো. ফরহাদ এবং মাঝি হিসেবে রয়েছেন হানিফ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চরফ্যাশনের পাঁচকপাট এলাকা থেকে মাছ ধরতে বের হওয়া ট্রলারটি সোনারচর সংলগ্ন সাগরে পৌঁছালে হঠাৎ এর পাখা ভেঙে যায়। ফলে ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে ভাসতে শুরু করে।

জেলেদের স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তারা কোস্ট গার্ডের হেলপলাইন (১৬১১১) এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) যোগাযোগ করে সাহায্য চেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্ধার অভিযান শুরু না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানটির দুর্গম প্রকৃতির কারণে সাধারণ মাছ ধরার ট্রলার দিয়ে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কোস্ট গার্ড বা নৌবাহিনীর শক্তিশালী নৌযান দিয়ে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ চার দিন ধরে সাগরে আটকে থাকায় জেলেদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে এসেছে। সাগর উত্তাল থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলেদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।