কিশোরগঞ্জের ইটনায় এক জনসভায় চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে রিটেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরাসরি তার শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি জানান, পরীক্ষায় পাস করার পর অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে তার কাছে আসলে তিনি প্রয়োজনীয় তদবির করবেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ-জনতাগঞ্জ বাজারে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনসভায় ফজলুর রহমান বলেন, "এই গ্রামের অনেকেই রিটেনে পাস করেছে, কিন্তু ভাইভাতে এলাউ হয়নি। এখন থেকে রিটেনে পাস করেই অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে আমার কাছে আসবা। যেখানে গেলে চাকরি পাবা, সেখানে আমি ফোন করে দেব।"

তিনি আরও বলেন, "রিটেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য চাকরিপ্রার্থীরা যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।"

চাকরির ক্ষেত্রে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠিয়ে তিনি বলেন, "রিটেনে পাশ করে দুইশো কিন্তু চাকরি দেয় ২৫ জনরে। ওখানে কায়দা করে ফালাইয়া দেয়। ওইখানে ঘুষ-টুসেরও ব্যাপার চলে। ওইটা আমার কাছে নিয়ে যাবেন। ওই ছেলেটাকে আমি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করব।"

অথচ, চাকরির নামে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, "চাকরি প্রত্যাশীর পক্ষ থেকে যদি কেউ টাকা-পয়সা দেয় তবে সে হাবিয়া দোজখে জ্বলবেন। তিনি আরও বলেন, আমি যদি খবর পাই কোনো লোক টাকার বিনিময়ে আমার কাছে চাকরির তদবির নিয়ে গেছে তবে হের চাকরিও যাইব আর যার চাকরির জন্য যাবে হেরটাও আর হবে না।"

সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি ও চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।