খুলনায় চুরির অভিযোগ তুলে বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এসআরবি–৬ ও ৮ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে।

আটক ব্যক্তির নাম হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০)। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, আজমল হোসেনদের মেসেই থাকতেন হাসনাত। ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, আটক হাসনাত হাবিব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে এসআরবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁকে খুলনা মহানগর পুলিশের হরিণটানা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এখনো হাসনাত হাবিব রিফাতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে ঘটনার পর থেকে হাসনাত হাবিব পালিয়ে ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।"

গত শুক্রবার রাতে প্রথমে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে আজমল হোসেনকে পেটানো শুরু হয়। পরবর্তীতে মেসে শিক্ষার্থীদের কাপড় ও টাকা চুরির অভিযোগও তোলা হয়। চারতলা মেস ভবনের ছাদে পেটানোর এক পর্যায়ে আজমল নিচে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায়।

এই ঘটনার পর আজমলের বাবা মো. কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে আটক হাসনাত হাবিব মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন; সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আটক করেছে এসআরবি।