খুলনায় ‘ভাত চুরির’ অপবাদে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, যদি ঘটনার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত থাকে, তবে তার পরিচয়, পদমর্যাদা বা ব্যাচ বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে হবে।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, "ঘটনার সঙ্গে যেকোনো সিনিয়র, জুনিয়র বা ব্যাচমেট যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা কামনা করছি।"
আরেক শিক্ষার্থী তানভির বলেন, "খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সময় ন্যায়বিচারের পক্ষে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনড় থাকবেন। একই সঙ্গে খুলনার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও ন্যায়বিচারের দাবিতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।"
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নির্ঝর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন আলোচনা তারা দেখতে পেয়েছেন। তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, "বিচার বহির্ভূতভাবে একজন মানুষকে হত্যা কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। একজন মানুষের বাবা-মায়ের কথা বিবেচনা করলেও এ ধরনের ঘটনার বিচার না চেয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।"
তিনি আরও বলেন, "ঘটনার পর থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসন বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।"
অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, যে ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা বসবাস করতেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এমন ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, "তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া যেন অযথা দীর্ঘা য়িত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।"
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া যায়। আজমল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার কুতুবউদ্দিনের ছেলে।
তাকে ভাত চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরের পর ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫/২৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তার বাবা কুতুবউদ্দিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন।
কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। ছেলের রুমমেটরা ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেছিল। টাকা দিলে ঝামেলা মিটে যাবে বলেও জানানো হয়। পরে ছেলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, "আজমলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"