পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে শহরের কয়েকটি স্থানে এসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার রিয়াজ হোসেন খানের বাউফলে আগমনে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে রিয়াজ হোসেন খানকে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর তার নেতৃত্বে শহরে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার কারণে কার্তিক ও রুবেল নামে দুই স্থানীয় ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীদের দাবি, ওই দুজন নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তারা ওই সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মতাকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াজ হোসেনের শোভাযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন।

এদিকে রাত ৯টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র পাবলিক মাঠসহ অন্তত চারটি স্থানে পরপর বিকট শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এগুলো ছিল ককটেল বিস্ফোরণ, যদিও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। শব্দের পর আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন এবং পথচারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, বিকট শব্দের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এগুলো ককটেল বিস্ফোরণ নাকি পটকা বা আতশবাজির শব্দ ছিল, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।