পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের তিন ছেলেকে ও তাদের মাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববারের বিরোধের পর সোমবার সকালে সালিশ বৈঠকে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে এই হামলা চালানো হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— মো. জহিরুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম এবং তাদের মা মনোয়ারা বেগম। এছাড়া হোসনেয়ার বেগম ও পূর্ণি বেগম নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
আহত জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী রাসেলের জমিতে কাজ করার পারিশ্রমিক হিসেবে তার ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। পরদিন সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে।
জহিরুলের অভিযোগ, সালিশে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর রাসেল ও তার সহযোগীরা এসে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তাকে রক্ষা করতে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। এসময় পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে পরিবারের ছয়জন আহত হন।
ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "রোববারের ঘটনার পর সোমবার সালিশ বৈঠকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর রাসেল মৃধা ও তার পরিবারের লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা করেছেন।"
অভিযোগের বিষয়ে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মামুনুর রশিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।"
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, আহত জহিরুল, খাইরুল, রেজাউল ও মনোয়ারাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।