ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশ নিয়ে বিএনপির এক নেতার সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার জেরে পরবর্তীতে থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মিঠু মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুলকে (৫০)।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, উপল (২৪), সোহেল ওরফে ডিস সোহেল (৩৬), রুবেল (২৮), ফরিদ (২৭), কামরুল (৪৮), মিলন (৩৩), রনি (৩৫), রাকিব (২৫), নিরব (২২) ও নাহিদ (৫৫)। তারা মুক্তাগাছা পৌরসভার ঈশ্বরগ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ঢুকতে চান। তখন দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. বকুল মিয়া তাকে জানান, ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে আছেন। তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হলে তিনি ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে ওসি কামরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে ওসির সঙ্গেও আরিফ রব্বানীরও কথা-কাটাকাটি হয়।

পুলিশের দাবি, রাত ১০টার কিছু আগে একদল লোককে থানার দিকে নিয়ে আসেন আরিফ রব্বানী। তাদের কারও হাতে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। এরপর তারা থানার প্রধান ফটক ভাঙচুর করেন। পাশের ট্রাফিক বক্সেও হামলা চালায়। এতে বক্সের কয়েকটি কাচ ভেঙে যায় এবং কয়েকটি লোহার রড বাঁকা হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে আরিফ রব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মুক্তাগাছা উপজেলা ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, "থানায় হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, "হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে।"