ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর আরও দুজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ডিএজি মো. বেলায়েত হোসেন আজ সোমবার এবং কে এম রেজাউল ফিরোজ (রিন্টু) গতকাল রোববার পদত্যাগপত্র দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্রে চলতি মাসে মোট আটজন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএজি মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রটি আজ বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, কে এম রেজাউল ফিরোজ জানান, তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র গতকাল বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। উভয়ের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে এবং ১৮০ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ডিএজি এবং এএজি পদে সব মিলিয়ে ২৬৬ জন নিয়োগ পান। এর আগে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পাওয়া সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিল করে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দেন। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাঁকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জল চাকমা পদত্যাগপত্র দেন।

এর দুদিন পর ৯ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা। তিনি ৩০ জুলাই ডিএজি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

ডিএজি এবং এএজি পদে ২৬৬ জন নিয়োগের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ না পাওয়া এবং নিয়োগপ্রত্যাশী বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে ২ আগস্ট বিক্ষোভ করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে সেদিন বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তাঁরা। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই তাঁরা বিক্ষোভ করেন।