টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার চিত্র এখন চরম বৈপরীত্যের। উপজেলার কিছু উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ থাকলেও বাস্তবে কোনো ভবন বা স্থাপনা নেই। অন্যদিকে, যেসব কেন্দ্রে স্থাপনা রয়েছে, সেখানে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সেবা পাচ্ছেন না প্রান্তিক মানুষ।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ছয়টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে—সদর, বড়চওনা, বহেড়াতৈল, বাঘেরবাড়ী, যাদবপুর ও হাতীবান্ধা। এর মধ্যে সদর, বড়চওনা, বহেড়াতৈল ও বাঘেরবাড়ীতে স্থাপনা থাকলেও যাদবপুর ও হাতীবান্ধায় কোনো ভবন নেই। অথচ এই দুটি স্থাপনাহীন কেন্দ্রেই চিকিৎসকের পদ বরাদ্দ করা হয়েছে।
স্থাপনা থাকা চার কেন্দ্রের মধ্যে কেবল বাঘেরবাড়ীতে একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন, তবে তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন সেখানে থাকেন। বাকি সময় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কাজ করতে হয়। সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মো. ছবুর রেজা মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ভবন নেই, অথচ চিকিৎসক আছেন; আবার কোথাও ভবন ও রোগী আছে, কিন্তু চিকিৎসক নেই—এমন পরিস্থিতিতে গ্রামপর্যায়ের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।"
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বড়চওনা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস এবং বহেড়াতৈল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার দীর্ঘ সময় ধরে প্রেষণে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সখীপুর সদর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত ১০ বছর ধরে কোনো চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই। সেখানে আয়েশা সিদ্দিকা নামের একজন কর্মকর্তা দুই বছর আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে সাইফুল আলম নামের একজন ফার্মাসিস্ট ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
বড়চওনা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। জরাজীর্ণ ভবনের দেয়ালে ফাটল, টিনের চালে মরিচা ও ছিদ্র এবং বিদ্যুৎ-পানির অভাব সেবা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের প্রায় ৮০ শতাংশ জমি দখল হয়ে গেছে এবং আবাসিক ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী। ওই কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রায়হান ফকির মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জনের বেশি রোগী এই কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তাঁর ও ফার্মাসিস্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।"
অন্যদিকে, স্থাপনা নেই এমন যাদবপুর ও হাতীবান্ধা কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। যাদবপুরের চিকিৎসা কর্মকর্তা জান্নাত আরা জ্যোতি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এবং হাতীবান্ধার চিকিৎসা কর্মকর্তা শামীমা আহমেদ ও উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহানা পারভীন মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "যাদবপুর ও হাতীবান্ধা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো স্থাপনা নেই। স্থাপনা না থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই দুটি কেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করেছে। এ কারণে চিকিৎসকেরা সেখানে দায়িত্ব পালন না করে অন্যত্র প্রেষণে কাজ করছেন। অন্য উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা কর্মকর্তাদের সংযুক্তি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে।"