মেহেরপুরের কৃষক রাফিউল ইসলাম ঘাস কাটার মেশিনে ডান হাত আটকে গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত সেবার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলেও তিনি ওই হাসপাতালে যাননি। বরং মেহেরপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) দেলোয়ার হোসেনের নিজ বাসায় গিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নেন। এই ভুল চিকিৎসার কারণে এখন রাফিউলের হাত শুকিয়ে যাওয়ায় পঙ্গুত্ব এবং হাতটি অপসারণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ২ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমঝুপিতে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত রাফিউলের ডান হাত মেশিনে আটকে যায়, ফলে হাতটি মারাত্মকভাবে ক্ষতগ্রস্ত হয়। আহত অবস্থায় তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে পরিবারের দাবি, রক্তক্ষরণ বন্ধ করে হাতটি বাঁচানোর আশায় তারা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছিলেন। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা দেলোয়ার হোসেনের সংযোগ নেন। পরামর্শ অনুযায়ী রাফিউল নিজ বাড়িতেই দেলোয়ারের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
রাফিউল জানান, দেলোয়ার হোসেন তার হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই করে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। এরপর থেকে প্রতিদিন ড্রেসিং করা হয়। এই চিকিৎসার জন্য তাকে ৭ হাজার টাকা নিতে হয়। শুরুতে ভালো হওয়ার আশা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ পর অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তার স্ত্রী আলেয়া খাতুন বলেন, "হাত ভালো করার আশায় বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেছি। কিন্তু আমার স্বামীর হাতের অবস্থার উন্নতি হয়নি।"
ছেলে আসিফ হোসেন জানান, দেলোয়ার হোসেনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পরপরই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিলেও কোনো উপশম হয়নি। বর্তমানে ধীরে ধীরে হাত শুকিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এখন রাফিউল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. শরিফ উদ্দিন লিটনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। ডা. লিটন জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী চিকিৎসাজনিত জটিলতার কারণে হাতের বর্তমান অবস্থা গুরুতর। সর্বশেষ পর্যায়ের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যাশিত ফল না পেলে হাতটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে হতে পারে।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সউদ কবীর বিষয়টি নিয়ে বলেন, "এ ধরনের গুরুতর আঘাতে ক্ষতস্থানে সঠিক নিয়মে চিকিৎসা ও সেলাই না হলে স্নায়ু, রক্তনালি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে হাতের কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের আঘাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আগানো ঠিক না।"
অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরা দেখে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ ও রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।