লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থানীয় বার্সেলোনাকে নাগালের মধ্যে রাখতে হলে এই ম্যাচটি জয় করা অপরিহার্য ছিল। এই সত্যটি রিয়াল মাদ্রিদ এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ উভয়ই জানত। সেই প্রেক্ষাপটে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে এল দেরবি মাদ্রিলেনোর ২৪৪তম অধ্যায়ের শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে আতলেতিকো মাদ্রিদের ২-১ গোলের বিজয়ে। এই জয়ের ফলে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে দুই নম্বরে উঠে এসেছে দিয়েগো সিমিওনের দল।
৭টি ম্যাচ শেষে আপাতত দুই নম্বরে থাকা আতলেতিকোর পয়েন্ট ১৬, অন্যদিকে তিন নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ১৫। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচের প্রথমার্ধটা যেন দাবার খেলার মতো ধীরস্থির ও হিসেবনুঁকু খেলা হয়েছিল দুই দলের। প্রথম ৩০ মিনিটে তেমন কোনো ঝড়-ঝাপট ঘটেনি। এরপর হঠাৎ ঝলক দেখা দেয়। লি-এর ক্রস ঠেকাতে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে ডাইভ দিতে হয়। একটু পর হানকোর শট ব্লক করেন ইব্রাহিমা কোনাতে। পাল্টা আক্রমণে দূর থেকে আরদা গুলেরের শট ঠেলে দেন ইয়ান ওবলাক।
গোল আসছিল না, কিন্তু মাঠের উত্তাপ বাড়ছিল ধীরে ধীরে। এই সময় বেঞ্চ থেকে আতলেতিকোর কোচ সিমিওনে রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ডে নাম তোলেন। রোমেরোর সঙ্গে জুড বেলিংহামের সংঘর্ষে একবার লাল কার্ডের গন্ধও পেয়েছিল ম্যাচ। ভিএআরের পর রেহাই পাওয়া যায়। তখনও বোঝা যায়নি, আসল ঝড়টা বাকি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৫০ মিনিটেই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। বক্সের ভেতর জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফেলে দেন ডিন হাউসেন। রেফারি পেনাল্টি দেন এবং হলুদ কার্ডও দেখান। কিন্তু ভিএআরে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে যায়, লাল কার্ড। পেনাল্টি থেকে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। কোর্তোয়া দিক বুঝেছিলেন, কিন্তু থামাতে পারেননি। ১-০।
১০ জনের রিয়াল তখনও সামলে উঠতে পারেনি। ৫৯ মিনিটে এল দ্বিতীয় ধাক্কা। জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রসে একেবারে ফাঁকা পোস্টে ঠেলে দেন জোনাথন ডেভিড। ২-০।
ম্যাচ তখন আতলেতিকোর মুঠোয়। মরিনিও বদল আনলেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর গুলেরকে তুলে নিলেন। নামালেন রুডিগারকে। কিন্তু ১০ জনের দল নিয়ে ম্যাচে ফেরার রাস্তা তখন প্রায় বন্ধ। ৭৬ মিনিটে একবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রি-কিক ভেসে এল বক্সে। সহজেই ধরে ফেললেন ওবলাক। রিয়ালের রাতটা যেন সেখানেই লেখা হয়ে গেল।
কিন্তু ফুটবল গল্প বদলাতে ভালোবাসে। ৮৯ মিনিটে হঠাৎ আলো দেখল রিয়াল। বের্নার্দো সিলভার ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করলেন আন্তোনিও রুডিগার। ২-১। মেত্রোপলিতানোর গর্জন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
শেষ মিনিটগুলোতে রিয়াল মরিয়া আক্রমণ করেছে, সবকিছু দিয়েই চেষ্টা করেছে। কিন্তু বদলায়নি ম্যাচের ফল।