ঢাকার ধামরাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক কর্মীকে আটক করতে বাড়িতে অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষোভে পুলিশ তার বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে। তবে থানা সূত্রে জানা গেছে, ছেলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবারের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে কলিম উদ্দিনকে একটি ‘পেন্ডিং’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত কলিম উদ্দিন পেশায় কৃষক। তাঁর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদ যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের কাছে এবং সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিক্রিয়া আসছে।

কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জনের একটি পুলিশ দল তাদের বাড়িতে এসে দরজায় কড়া নাড়ে। পুলিশের পরিচয় পেয়ে স্বামী দরজা খুলে দেন। ওই সময় বাড়িতে তিনি, তাঁর স্বামী, মেয়ে ও পুত্রবধূ ছিলেন। হাসিনা বেগম বলেন, "পুলিশ প্রথমে আমার ছেলে রিফাতের বিষয়ে জানতে চায়। রিফাত বাড়িতে নেই এবং রাজনৈতিক কারণে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ নেই—এমন কথা বললে পুলিশ আমার স্বামীকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয় এবং রোববার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "আমার স্বামী কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর নামে কোনো মামলাও নেই। ছেলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তারও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, "আমার ভাই রাজনীতি করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে বাড়িতে আসেন না। পরিবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ নেই। তাঁর বাবা কখনো রাজনীতি করেননি। ভাইকে না পেয়ে বাবাকে পুলিশ নিয়ে গেছে।"

অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে রিফাত আহমেদ নিজেকে যুবলীগের কর্মী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, "আমি যুবলীগের কোনো নেতা নই; সক্রিয় কর্মী হিসেবে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছি।" তবে তিনি অভিযোগ করেন, "আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমার বাবাকে পুলিশ হয়রানি করে গ্রেপ্তার করেছে।"

ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, "রিফাত আহমেদ যুবলীগের নেতা এবং তার নেতৃত্বে কিছুদিন আগে একটি মিছিল হয়েছিল। কাউলিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালায়। ইনচার্জের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার পরিবারের সদস্যরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক। এ কারণে কলিম উদ্দিনকে একটি ‘পেন্ডিং’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।"

ওসি আরও জানান, কলিম উদ্দিনের নামে আগে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতাও নন। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থক—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।