গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগের তিন নেতার মাজারের কাছে, হাজারীবাগের একটি ফলের আড়তের সামনে ও মৌচাক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে গতকাল দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত ৯টি স্থানে ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান আহত হন। রাত ১১টার দিকে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে দুটি এবং রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেটের ঢাকা কলেজের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

গত শুক্রবার ককটেল বিস্ফোরণের পর নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও নজরদারি।