কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের একমাত্র পুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও এক কিশোরকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এর আগে এই ঘটনায় পুলিশ একই বয়সী অন্য এক কিশোরকে আটক করেছিল।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকা থেকে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে আটক করে এসআরবি। এর আগে বেলা একটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। তার ব্যবহৃত আইফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার উপপরিচালক ও অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম শনিবার রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এখন তাঁদের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।"

এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া এক কিশোরকে কোটবাড়ি এলাকা থেকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শনিবার রাত নয়টার দিকে মুক্তকণ্ঠকে দুইজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে থানা–পুলিশ, ডিবি, এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অভিযান পরিচালনা করছে।"

এদিকে জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে জানান, ঘটনার পরপরই ডিবি পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে এবং তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। ওই কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে আরও এক কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই হিসেবে মোট আটকের সংখ্যা তিনজনে দাঁড়াতে পারে, তবে তৃতীয় কিশোরের আটকের বিষয়টি জেলা বা থানা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।