মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন প্রাইভেট কারের চালক মো. সোহেল (৩০) এবং যাত্রী মজিবুর রহমান (৫৫), শামীমা আক্তার (৪৫) ও সাবিহা চৌধুরী (৪৩)। সকলেই ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা। আহত তিনজনের মধ্যে দুজন বাসের যাত্রী। প্রাইভেট কারের একজন আহত যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর নাম-পরিচয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিউ বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, গজারিয়ার জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি শেষে ঢাকামুখী প্রাইভেট কারটি মহাসড়কে উঠছিল। চট্টগ্রামমুখী লেনের একটি কাটা অংশ পার হয়ে প্রাইভেট কারটি ভুল করে ঢাকামুখী লেনে উঠতে চায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বাসটির ধাক্কায় প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসটিও সড়কে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার কবরে পড়ে প্রাইভেট কারের চালকসহ চারজন ভেতরে আটকা পড়েন। ঘটনাস্থলেই চালক সোহেল নিহত হন।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দুপুরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাইভেট কারের চালকের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।"
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। গজারিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাইভেট কারটি উল্টো পথে ছিল। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।