মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী সুমন সরকার (৪০) তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম (৩২)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামি সুমনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন সরকার তাঁর স্ত্রী রিনা বেগমকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুরো ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুমন স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় স্বজনরা মীমাংসা করে দেন। এরপরও রাতে স্ত্রীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন সুমন।
খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর রাত ১০টার দিকে মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন রিনা বেগম। স্বামী সুমন সরকার পাশের বড় কক্ষে ঘুমান। রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি স্ত্রীর কক্ষে যান। আট বছরের মেয়ের পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তিনি।
হত্যার পর সুমন বাড়িতেই অবস্থান করেন। ভোরে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে চলে যান। পুলিশ জানায়, হত্যার পর সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল কুমিল্লায় অনুসরণ করতে থাকে। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে পুলিশের অপর একটি দল টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত রিনা বেগম গজারিয়ার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। সুমন সরকার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি। প্রায় ১৭ বছর আগে রিনা ও সুমনের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে মো. আবদুল্লাহ (১৪) এবং এক মেয়ে সিনহা আক্তার (৮) রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।