সাহিত্যের অন্যান্য শাখার মতোই কবিতা সমাজের আয়না। সাম্প্রতিককালে জব্বার আল নাঈমের লেখা 'ভয়ংকর!' নামক কবিতাটি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই কবিতায় কবি প্রাণী ও সভ্যতার সম্পর্ক তুলে ধরেছেন এক অনন্য দৃষ্টিকোণ থেকে।

কবিতার শুরুতে কবি উল্লেখ করেছেন, যেসব প্রাণী জঙ্গলের ভাষা জানে না, তারা প্রথমদিকে বিপদ বা মুশকিল হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করে। কিন্তু যারা গর্জনের ভাষা বুঝতে পারে, তারা আসলে প্রাণীদের জন্য খাঁচার দরজা খুলে দেয়। এরপর লৌহ ব্যাসার্ধ বা কাঁটাযুক্ত বেড়ার মাধ্যমে প্রাণীটিকে বন্দী করা হয়।

সভ্যতার এক বিশেষ শ্রেণি এটিকে কৌতূহল বলে অভিহিত করে। শিক্ষার পর প্রাণীটিকে খাঁচার ভেতরে রাখা হয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকে এবং বলে, "কী আশ্চর্য সুন্দর..."। অথচ খাঁচার ভেতরে থাকা প্রাণীটি ভাবে, বনের বাইরেও অন্য কিছু প্রাণী বাস করে।

কবিতার শেষ পঙক্তিতে কবি একটি গভীর বিষয় তুলে ধরেছেন। আত্মস্বীকৃতিতে নিজেকে মানুষ দাবি করলেও, সেই মানুষগুলোই সবচেয়ে ভয়ংকর জন্তু। এই কবিতা পাঠকদের চিন্তায় ফেলে যে, সভ্যতার নামে আমরা কতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছি।