ফিফা আসিয়ান কাপের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন প্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতফুসা এবং জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ। তবে এই তালিকায় অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফ আমির কেরাওয়ালাকে স্থান দেওয়া হয়নি।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে আসিয়ান কাপ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে থমাস ডুলির শিষ্যরা। তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে।

চূড়ান্ত দলে নতুন মুখদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফুলহামের বয়সভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তিনি সরাসরি বাংলাদেশের ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় এসে দলের সাথে যুক্ত হবেন। জাপানপ্রবাসী শুকি ইতফুসাও আক্রমণভাগে নতুন বিকল্প হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন। প্রাথমিক ক্যাম্পে নিজেকে ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি। একইভাবে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা সেন্টার-ব্যাক জিদান ইউসুফও চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে খেলেছেন জিদান। প্রাথমিক দল ৩৪ থেকে ২৮ জনে নামানোর সময়ও ডুলি শুকি ও জিদানকে রেখেছিলেন।

চূড়ান্ত স্কোয়াডে ফিরেছেন বিদেশে খেলা কিছু পরিচিত মুখও। প্রাথমিক দলে না থাকলেও হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম, তারিক রায়হান কাজী ও জায়ান আহমেদ ২৩ জনের দলে জায়গা পেয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই ক্লাব ব্যস্ততার কারণে শুরু থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন না।

গোলরক্ষক পজিশনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল জিকোর বাদ পড়া। চূড়ান্ত দলে রাখা হয়েছে মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণকে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্যাম্পে যোগ দেওয়া সাইফ কেরাওয়ালাও শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি।

রক্ষণভাগে আছেন তপু বর্মন, শাকিল আহাদ তপু, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ ও জিদান ইউসুফ। মাঝমাঠ ও আক্রমণে অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে থাকছেন দুই সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, ফাহামেদুল, হামজা, সমিত, ফারহান ও শুকি।

বাংলাদেশ মূলত ভারতের জায়গায় শেষ মুহূর্তে আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ভারত সরে দাঁড়ানোর পর আয়োজকদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাফুফে, পরে ফিফাও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। আট দলের প্রিমিয়ার ডিভিশনে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে।

নভেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। দলের ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ১৯ সেপ্টেম্বর।

বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের দল:

গোলরক্ষক: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

ডিফেন্ডার: তপু বর্মন, শাকিল আহাদ তপু, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, তারিক রায়হান কাজী, জায়ান আহমেদ, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ।

মিডফিল্ডার ও আক্রমণভাগ: এস এম মনজুরুর রহমান, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা সিনিয়র, সোহেল রানা জুনিয়র, মোহাম্মদ হৃদয়, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, ফাহামেদুল ইসলাম, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সমিত সোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতফুসা।