ঝালকাঠির রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে আকস্মিক পরিদর্শন করেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। এই পরিদর্শনে ঘুষ ও অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় এক দলিল লেখককে শোকজ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি এ অফিসে যান। পরিদর্শনকালে এমপি বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং জমি গ্রহীতা মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। জাকির হোসেন জানান, তিনি ৩ লাখ টাকার একটি জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য দলিল লেখক মো. আলকাজ হোসেনকে খরচ বাবদ ৩৬ হাজার টাকা দিয়েছেন।

এই বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, "৩ লাখ টাকার জমির রেজিস্ট্রি বাবদ ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বেশি।"

অভিযোগের ব্যাখ্যা চাইলে দলিল লেখক আলকাজ হোসেন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করে বলেন, "আমি দলিল খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছি। বাকি ৬ হাজার টাকা জাকির হোসেন নিজে বাইরে থেকে দাখিলা সংগ্রহে খরচ করেছেন।"

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রার (খণ্ডকালীন) মো. মেহেদী হাসান মুক্তকণ্ঠকে জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে দলিল লেখক আলকাজ হোসেনকে শোকজ করে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র জমিদাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাচ্ছিলাম। অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই আকস্মিক পরিদর্শন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য প্রয়োজনে একটি নজরদারি টিম গঠন করা হবে।"

পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হক নান্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাসুম বিল্লাহ পারভেজ, সদস্যসচিব সৈয়দ নাজমুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাবু রতন দেবনাথ ও সদস্যসচিব মো. রিয়াজ হোসেন খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।