আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রেজিস্ট্রেশন দপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ন্যস্ত করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি নাসের রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল জরিপ সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম সংস্কার এবং ডিজিটালাইজড ভূমি ব্যবস্থাপনা স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া সারা দেশের শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ ও সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পেরও হালচাল জানা হয়।

কমিটি যেকোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে সুপারিশ করেছে। ভূমি-সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ভূমি ভবন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থায়ী কমিটি। এর মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সেবা ব্যবস্থাপনা সরাসরি পর্যালোচনা করা হবে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, জয়নাল আবদিন, শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, এরশাদ উল্লাহ, সুলতানা আহমেদ, মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) এবং মুহাম্মদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর জনবল, কাঠামো ও কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রেজিস্ট্রেশন দপ্তর (সাব-রেজিস্ট্রি অফিস) বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়, আর ভূমির নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান ও খাজনা আদায়ের কাজ করে ভূমি মন্ত্রণালয়। এই দুটি দপ্তর আলাদা মন্ত্রণালয়ে থাকায় জমি কেনাবেচা ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।