ফরিদপুরের মধুখালী হাটে কৃষক পরিচয়ে আসা কয়েকজন ব্যক্তি ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টা করলে সন্দেহ হয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভেজাল থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রায় চার মণ কালোজিরা দোকানে রেখে বিক্রেতারা পালিয়ে যান। এরপর সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই ভেজাল মসলা নষ্ট করে দেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড়ে মন্দিরের সামনে এই নষ্টকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষি কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের প্রতিনিধিবৃন্দ।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের মধুখালী হাটে কয়েকজন ব্যক্তি কৃষক পরিচয়ে কালোজিরা বিক্রি করতে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভুসিমালের দোকানে কালোজিরা বিক্রির জন্য নিয়ে যান। এতে তার সন্দেহ হয়।

লটাই বিশ্বাস কালোজিরাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এতে ভেজাল মেশানো থাকার দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তিনি কৌশলে বিক্রেতাকে দোকানে বসতে বলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি প্রায় চার মণ কালোজিরা দোকানে রেখে পালিয়ে যান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, বাজার ব্যবসায়ী মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন, তৌফিক বিশ্বাসসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালোজিরা নষ্ট করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী ও মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী জানান, প্রাথমিকভাবে কালোজিরার মধ্যে ভেজাল থাকার বিষয়টি দৃশ্যমান মনে হলেও তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

তবে কালোজিরায় কী ধরনের ভেজাল ছিল, কোথা থেকে তা আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।