নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে প্রায় সাত মণ ওজনের একটি শাপলা পাতা (পাতা হাউস) মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ এই মাছটি স্থানীয় ব্যবসায়ী বিষু ব্যাপারী ৮৬ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাতির চেয়ারম্যান ঘাটের গাজী মেম্বারের আড়ত থেকে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মাছটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
মৎস্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মৎস্য আইনে শাপলা পাতা মাছ শিকার নিষিদ্ধ না হলেও, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর আওতায় এ ধরনের মাছ শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি।
চেয়ারম্যান ঘাটের আড়তদার নিজাম মাঝি জানান, মঙ্গলবার হাতির ভাসানচরের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে জেলেরা চরঘেরা জালে এই বিশাল মাছটি ধরেছিলেন। বুধবার সকালে মাছটি ঘাটে নিয়ে আসা হয় এবং বিকেলে আড়তে রাখা হয়। একই দিনে বিষু ব্যাপারী মাছটি ক্রয় করেন। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য মাছটি ছোট ছোট টুকরো করে নেন।
বিষু ব্যাপারীর আড়তের ম্যানেজার ফরহাদ বলেন, এত বড় শাপলা পাতা মাছ আগে কখনো দেখেননি। তিনি শখ করেই বেশি দাম দিয়ে মাছটি কিনেছেন এবং ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ভাসানচর ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে চরঘেরা জাল নদীর চারপাশে শক্ত খুঁটির সাথে বেঁধে বসানো হয়। পানি কমলে বিভিন্ন মাছ ওই জালে আটকা পড়ে যায়। সরকার এই ধরনের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান ঘাটে শাপলা পাতা মাছটি বিক্রি হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হবে।