রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরের আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন সেন্টারে জমকালো আয়োজনে পর্দা নামল ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ আসরের। বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মহোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদের বিদায় জানানো হয়।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ। তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "অনেক দূরত্ব অতিক্রম করে আপনারা এখানে এসেছেন এটা দেখতে যে, রাশিয়া অর্থাৎ একটি উন্মুক্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ কীভাবে জীবনযাপন করে। এটিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আপনাদের অবস্থানকে আরামদায়ক ও সুখকর করে তোলার জন্য আয়োজকরা সম্ভাব্য সবকিছুই করেছেন এবং সত্যি বলতে, যা প্রায় অসম্ভব মনে হতে পারে; এমন কাজও তারা করেছেন। আমি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা অংশগ্রহণকারীদের আমাদের বিশাল মাতৃভূমির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত করেছেন।"
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ আরও বলেন, "রাশিয়া সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ। আমরা চাই আপনারাও যেন এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন। আমরা পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। আমার বিশ্বাস, সবাই একমত হবেন যে, ‘আন্তর্জাতিক যুব উৎসব’ পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং নিঃসন্দেহে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠেছে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, ইয়েকাতেরিনবুর্গে আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন—এ ধরনের আয়োজন একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে, সীমানার বাধা দূর করতে এবং সব ধরনের গৎবাঁধা ধারণা বা কুসংস্কার কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।"
‘ফলো ইযর ড্রিম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালের সমাপনী পর্বে রাশিয়ার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও ব্যান্ডদল মনোজ্ঞ কনসার্ট উপহার দেয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের স্থানীয় কৃষ্টি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
রাশিয়ার জাতীয় প্রকল্প ‘ইয়ুথ অ্যান্ড চিলড্রেন’ এর আওতায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিন পুতিনের আদেশে এই যুব উৎসব আয়োজিত হয়। যুব বিষয়ক দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা রসমোদোলেজের তত্ত্বাবধানে এবং ওয়ার্ল্ড ইউথ ফেস্টিভাল ডিরেক্টরেট এর সহযোগিতায় ফেস্টিভ্যালটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে ৭০ জন যুব প্রতিনিধি এবং চারজন গণমাধ্যম কর্মী অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফেস্টিভ্যালের কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও, মূল আসরের সমাপনী পর্ব গতকালই আয়োজিত হয়।