নেত্রকোনা শহরে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগ, তিনি একই ছবি ব্যবহার করে ৯৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি তৈরি করছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণকে আটক করা হয়।

জেলা ডিবির সদস্যরা জানান, রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামের ওই তরুণের কাছ থেকে ৭টি প্রিন্ট করা জাল এনআইডি, ৬টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে সংরক্ষিত ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালানো হয়। সেখানেই তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত রবিউল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনায় তার স্ত্রীর কাছে থাকতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার জন্য ওই দোকানে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব বলেন, উদ্ধারকৃত সাতটি প্রিন্ট করা এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সবগুলোতে একই ব্যক্তির ছবি রয়েছে; শুধু শার্টের রঙ ভিন্ন। ছয়টি কাগজে এনআইডির পেছনের অংশ প্রিন্ট করা ছিল, যেখানেও একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরে রবিউলের মুঠোফোন জব্দ করে পরীক্ষা করলে ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। এসব ফাইলেও ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

আজ বুধবার বিকেলে রবিউলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির এসআই হায়দার আলী রানাকে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, একের অধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ডাবল হলেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তা ধরা পড়বে। তখন নির্বাচন কমিশন জালিয়াতির মামলা করে থাকে।

মুক্তকণ্ঠকে তোফায়েল বলেন, "ওই তরুণ যে কাজটি করেছেন এজন্য একাধিক মামলা হতে পারে। অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃতি এটা গুরুতর অপরাধ। কমিশনে চাকরিরত কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তার শাস্তি এক, আর ব্যক্তি হিসেবে করে থাকলে তার শাস্তি ভিন্নতর। যে ধারায় মামলা হয়েছে তা অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।"

তথ্যের ভিত্তিতে জেলা ডিবির সদস্যরা ওই তরুণের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখান।