বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, আগামী বছর ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ স্ট্যাটাস অর্জন গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় সরকার আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক (জেএফকে) রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ করছে।" তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এফএএর আইএএসএ ক্যাটাগরি-১ স্ট্যাটাস গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।"

সাক্ষাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইনস হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রী দ্রুত ডেলিভারির ওপর জোর দিয়ে বলেন, "বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজের ডেলিভারির সময় দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি।"

দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রদূতকে জানান মন্ত্রী। আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, "বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হওয়ার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে। ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি জানান।" তিনি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত। পর্যটন খাত নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উন্নীত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।" পর্যটন স্পট সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।