শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের অংশ পাঠানোর অভিযোগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহাদেব চন্দ্র রায়কে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি মাধ্যমিক শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে এই স্থানান্তরকে ‘জনস্বার্থে বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ন থেকে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

গত ১ জুলাই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার আগে ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নের কিছু অংশ তার প্রাইভেট পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশটের সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে শিক্ষক মহাদেব চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট ও বিশেষ কোচিং ক্লাসে পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ ছিল। এমনকি তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১ জুলাই ‘মুক্তকণ্ঠ’ পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং পরবর্তীতে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, "হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন দেওয়ার বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সংবাদ প্রকাশিত হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে বদলি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।"