ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ধস্তাধস্তির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত এক শিক্ষক দম্পতিকে একই উপজেলার দুই প্রান্তের ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। প্রথমে সহকারী শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও বদলির আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন এবং তাকে কাহালগাঁও দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। এই পদক্ষেপের ফলে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত ওই দম্পতির কর্মস্থল আলাদা হয়ে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর। ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা জীবনযাপন করছেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে, যদিও তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। দীর্ঘদিনের এই ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাব বিদ্যালয়েও পড়ে এবং সেখানে একাধিকবার তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এমনকি গত ৫ অক্টোবরও বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রধান শিক্ষক তখন সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করিয়েছিলেন।
এই পুরো ঘটনায় সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এই বিষয়ে বলেন, “ওই দিনের ঘটনায় আমার কোনো দোষ ছিল না। তবু আমাকে বদলি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে নিতে আমরা বাধ্য।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।