জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। নির্বাহী বিভাগের অতিক্ষমতায়ন রোধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ ও সরকারি প্রভাবমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মতবিনিময় হয়।
আলোচনা সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও রাজনীতি, নির্বাচন ও সংসদ মূলত অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম, পুরুষতন্ত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘জয়ী দল সবকিছু পাবে’ এমন একপাক্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকর করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন ও এসআরবি আইন ঢেলে সাজানোর দাবি জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বিএনপি সরকার বাক্স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং রাষ্ট্রীয় মদদে গুম ও খুন বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, এমপি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে বসা ব্যক্তির দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করা হচ্ছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত। দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, বর্তমান সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী হওয়ায় সংসদে জনগণের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বেশি সিদ্ধান্ত হয়। ফলে গণতন্ত্র আজ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক তাসনিম জারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুসংগঠিতভাবে অপপ্রচার বা বট চালিয়ে রাজনৈতিক বুলিং ও ডিজিটাল সহিংসতা সৃষ্টি মূলত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। তরুণদের অধিকার রক্ষায় এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা গ্রহণ, সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ভাইভা নম্বর ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন।