কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গভীর রাতে সড়কের তিন রাস্তার মোড়ে সাদা কাপড়ের পুঁটলি এবং জ্বলন্ত মোমবাতি উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই খবর দ্রুত ভাইরাল হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ-ফিলিপনগর সড়কের মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ ছ-মিল পাড়া এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে কাফনের পুঁটলি ও জ্বলন্ত মোমবাতি দেখতে পান স্থানীয়রা।
উদ্ধারকৃত সাদা কাপড়ের গায়ে রক্তের মতো লাল দাগ ছিল। পুঁটলির ভেতরে সিঁদুর, একটি পুতুল এবং মাটির তৈরি কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। গভীর রাতে এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুঁটলিটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হুসাইন আহম্মেদ বলেন, "রাতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তার মোড়ে দেখি একটি সাদা পুঁটলিকে ঘিরে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। সাদা কাপড়ের পাশে মোমবাতি জ্বলছিল এবং কাপড়ের গায়ে লাল রঙের দাগ দেখা যাচ্ছিল। ঘটনাটি দেখে প্রথমে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে পুঁটলিটি সরিয়ে নেয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, "হয়তো কেউ ভয় দেখাতে বা কালাজাদু করতে এসব রেখে যেতে পারে। ঘটনাটি দেখে রাতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।"
কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব জিনিস সেখানে রেখে গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, "প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে কেউ এমনটি করে থাকতে পারে। কাফনের কাপড়ে লাল রঙের আলতা জাতীয় কিছু মাখানো ছিল। এটি কোনো মানত, কালোজাদু কিংবা কুফরির অংশও হতে পারে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে পুঁটলিটি সরিয়ে নিয়েছে।"