নড়াইল সদর উপজেলার সিংহাসলপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী অবলা বাগচীর জীবন এখন কষ্টের সংগ্রামে। স্বজনদের আশ্রয়ের প্রত্যাশায় থাকা এই বয়সেও অসুস্থ স্বামী সমীর বাগচীকে নিয়ে প্রতিদিন তাকে জীবনযুদ্ধ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন সমীর, যার ফলে তিনি বেশিরভাগ সময় বিছানায় শুয়ে থাকেন। অর্থের অভাবে তার নিয়মিত চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।

একসময় স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখে ছিল তাদের পরিবার। তবে সময়ের সাথে সন্তানরা নিজেরাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ বাবা-মায়ের তেমন খোঁজখবর নেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবলা ও সমীরের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই; তারা অন্যের জায়গায় বসবাস করেন। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে অবলার ওপর। বয়সের ভার উপেক্ষা করে তিনি অন্যের জমিতে সবজি চাষ ও ছাগল পালন করে সামান্য আয় করেন, যা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান।

অবলা বাগচী বলেন, "স্বামীর চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েরাও আমাদের খোঁজ নেয় না। অনেক কষ্টের মধ্যেও তাদের নিয়ে আমি কোনো অভিযোগ করতে চাই না।"

স্থানীয় বাসিন্দা দিপালী দাস জানান, "অবলা খুব সহজ-সরল মানুষ। স্বামী অসুস্থ, ছেলেমেয়েরাও তেমন খোঁজ নেয় না। এই বয়সে তার বিশ্রামে থাকার কথা। কিন্তু সংসারের জন্য তাকেই কাজ করতে হচ্ছে। সামর্থ্যবান মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়ালে তাদের অনেক উপকার হবে।"

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবলার পরিবারের স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস নেই। বয়সের কারণে তার কর্মক্ষমতা আগের মতো না থাকলেও অসুস্থ স্বামীকে একা রেখে বসে থাকার সুযোগ তার নেই। খাবারের ব্যবস্থা ও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে তাকে প্রতিদিন কাজ করতে হয়। স্বামীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।