দেশের আলিয়া, কওমি ও হিফজসহ সকল ধরনের মাদ্রাসায় জাতীয় পর্যায়ে ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল’ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি’ গঠনের দাবিতে পাঁচ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার এই নোটিশটি স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সমাজকল্যাণ এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে প্রেরণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নূরুল হুদা।

মুক্তকণ্ঠকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইনজীবী মোহাম্মদ নূরুল হুদা জানান, পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উক্ত সেল ও কমিটি গঠন করতেই তিনি এই আইনি নোটিশ দিয়েছেন। যদি সরকারি সংস্থাগুলো কার্যকর, ইতিবাচক ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি হাইকোর্টে রিট মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোয় যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশদাতা আইনজীবী ছয় মাসের কম সময়ে দেশের অন্তত ১৮টি জেলায় মাদ্রাসার শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়কদের দ্বারা শিশুদের প্রতি ধর্ষণ, বলাৎকার, যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও গুরুতর শারীরিক নিষ্ঠুরতার অন্তত ৩০টি পৃথক ঘটনার তথ্য জাতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন।

এছাড়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনের এসব ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে পাঁচ, ছয় ও সাত বছর বয়সী শিশুরাও ভুক্তভোগী হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছয় মাস, কখনো প্রায় এক বছর ধরে বারবার নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।