রাজধানীতে যক্ষ্মা রোগীদের জন্য আলাদা কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল বা ইনস্টিটিউট নেই। এই ঘাটতি পূরণে শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানটি যক্ষ্মা গবেষণার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি যক্ষ্মাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-নর্স এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে হাসপাতালের উপপরিচালক আয়শা আক্তার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে বছরে যক্ষ্মায় ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। যক্ষ্মায় প্রতিদিন এক শর বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অথচ রাজধানী ঢাকাতে শুধু যক্ষ্মার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
আয়শা আক্তার আরও জানান, মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে অনেক রোগের সঙ্গে যক্ষ্মার চিকিৎসাও হয়। কিন্তু সেটি যক্ষ্মাপ্রতিষ্ঠান নয়। জাতীয়ভাবে একটি যক্ষ্মাপ্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। সেখানে এক ছাতার তলে উন্নতমানের চিকিৎসা, গবেষণা ও শিক্ষার আয়োজন থাকবে। তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল’কে সেই জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা আমরা চালাচ্ছি।’
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, যক্ষ্মা হাসপাতালকে আধুনিক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। হাসপাতালটিকে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে।
সাধারণত প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের একটি করে ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এর সভাপতি করা হয়। সেই হিসাবে ববি হাজ্জাজ শ্যামলীর এই যক্ষ্মা হাসপাতালের সভাপতি। তবে এ পর্যন্ত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত হয়নি। আয়শা আক্তার জানান, তিনি এই হাসপাতালে পাঁচ বছর কাজ করছেন। পাঁচ বছরে ব্যবস্থাপনা কমিটির এটিই প্রথম সভা। শুধু তা–ই নয়, এর আগে এই হাসপাতালে কবে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে তার কোনো ইতিহাস সেখানে নেই।
সভায় জানানো হয়, ১৯৬৩ সালে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এর শয্যাসংখ্যা ছিল ১৫০। ২০০৪–০৫ অর্থবছরে এটিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ২০১৫ সালে শেষ হয়। তবে বর্তমানে এখানে শয্যা আছে ১৫০টি এবং ক্যাবিন আছে ৪২টি। অর্থাৎ ১৯২ রোগীর থাকার ব্যবস্থা আছে। একটি ভবন অতি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ।
এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির মোট সদস্য ১৮ জন, যারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। আজকের সভায় ১৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যরা জানান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হাসপাতালের জবাবদিহি বাড়াবে, এতে সেবার মান বাড়বে। কেউ বলেন, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত হওয়া দরকার।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সভায় হাসপাতালের অনেক বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত উত্তর চান। তিনি জানতে চেয়েছেন হাসপাতালের জনবল নীতি, অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সংখ্যা; আর কতটি ওটি দরকার, ল্যাবরেটরিতে কী কী পরীক্ষা হয়, প্রয়োজনীয় কী কী পরীক্ষা হয় না, শিশু বৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যক্ষ্মা রোগীর কী চিকিৎসা হয়—এই ধরনের ২০টি প্রশ্নের উত্তর। তিনি বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতে আগামী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।