রাজধানীর শ্যামলীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোররাত পৌনে পাঁচটার দিকে শ্যামলী স্কয়ারের সামনের পদচারী সেতুর নিচে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুজন গুরুতর আহত হন।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, নিহতদের মধ্যে একজনের নাম মুক্তা বলে জানা গেছে, যার বয়স আনুমানিক ২০ বছর। অন্য একজনের নাম জানা যায়নি, তবে তিনি একজন কিশোরী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দুজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের একজনের মৃত্যু ঘটে ঘটনাস্থলেই, আর অন্যজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ওসি আব্দুল হালিম তাঁর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল হাসান খান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সেখানে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কিশোরীটি ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাথার খুলি ভাঙা ছিল। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা অপরজনের নাম মুক্তা বলে জানা যায়। দ্রুত দুজনকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং অপরজনের মৃত্যু হয় চিকিৎসা চলাকালীন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের বরাতে পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহত দুই পথচারীর কেউই ফুটপাতে বসবাস করতেন।
নিহতদের সঠিক নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান ওসি আব্দুল হালিম। পিবিআই তাদের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ওসি আব্দুল হালিম আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বেপরোয়া গতির ট্রাকটি নিয়ে চালক দ্রুত পালিয়ে যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।