এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের রেকর্ড হারের পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের নির্বাচন নিয়ে তীব্র প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার ও শিউলি আজিমের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসিয়ে একঝাঁক তরুণকে শুরুর একাদশে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। ম্যাচের পর সেই সিদ্ধান্ত এবং ফলাফলের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন ইংলিশ কোচ।

সোমবার এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করার পর ১১ মিনিটের মধ্যে স্কোর হয়ে যায় ৩-০। শেষ পর্যন্ত ১০-০ ব্যবধানে হারে লাল-সবুজেরা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় হার।

বড় ব্যবধানের হারের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে বাটলারের একাদশ। অভিজ্ঞ মনিকা, ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহার ও শিউলিকে শুরু থেকে খেলাননি তিনি। তাদের জায়গায় মোমিতা খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস ও সুরভী আফরিনদের মতো তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়।

বাটলারের ব্যাখ্যা, সিদ্ধান্তটি আকস্মিক ছিল না। এশিয়ান গেমসে তরুণ ফুটবলারদের বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এসেছেন তিনি। ম্যাচের আগের দিনও জানিয়েছিলেন, ফল যা-ই হোক, কয়েকজন তরুণকে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সুযোগ দেবেন। দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি করাই তার লক্ষ্য। এর আগেও দল গঠন নিয়ে একই দর্শনের কথা বলেছেন ইংলিশ কোচ।

তবে উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই পরীক্ষা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে। চার গোল হজমের পর শিউলিকে নামিয়ে পাঁচজনের রক্ষণ সাজান বাটলার। বিরতির পর আরও অভিজ্ঞ ফুটবলার মাঠে এলেও তখন ম্যাচ বাংলাদেশের নাগালের অনেক বাইরে।

ছয় মাস আগেও নারী এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার একই প্রতিপক্ষের কাছে হার ছিল ৫-০। সেই ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময় পর্যন্ত উত্তর কোরিয়াকে গোল করতে দেয়নি বাংলাদেশ। এবার পাঁচ মিনিটেই ভেঙে পড়ে রক্ষণ, আর প্রথমার্ধেই হজম করতে হয় সাত গোল।

১০-০ গোলের হার বাংলাদেশের আগের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ডও ভেঙেছে। ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের কাছে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ নারী দল। এবার বাটলারের অধীনেই সেই ব্যবধান ছাড়িয়ে গেল।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথম ম্যাচের এই বিপর্যয়ের পর বাটলারের দল নির্বাচন ও তরুণদের নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা পরের ম্যাচগুলোতেও থাকবে বাড়তি নজরে।