‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ ও ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’-এর প্রলোভন দেখিয়ে শত শত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘আঁখি সুপার শপ’-এর পরিচালক আসমা শারমিন আঁখিকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ।

প্রায় সাড়ে চার বছর পলাতক থাকার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসমা শারমিন আঁখি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর আলম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আঁখির বিরুদ্ধে ১৫টি গ্রেপ্তার পরোয়ানা রয়েছে। সোমবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ‘আঁখি সুপার শপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় অফারের প্রচারণা চালানো হতো। এর মধ্যে একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য ফ্রি এবং শতভাগ ক্যাশব্যাকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, গ্রোসারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য ৩০ ও ৯০ দিনের প্যাকেজ চালু করা হয়েছিল।

এসব অফারে আকৃষ্ট হয়ে সিলেটের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহক টাকা জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে আঁখি ও জাহাঙ্গীর আত্মগোপনে চলে যান।

এরপর প্রতারিত গ্রাহকেরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং টাকা ফেরতসহ আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ২০২২ সালে সিলেটে মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

বাগমারা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন আঁখি। অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে তারা গাজীপুরে অবস্থান করেন এবং সেখানে ‘এসএম ওয়েল মিলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে অনলাইনে তেল বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। এ ছাড়া অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে খোলা ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করতেন তারা। সম্প্রতি পিরোজপুরের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সূত্র ধরে পুলিশ আঁখির অবস্থান শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করে।

পরবর্তীতে জানা যায়, প্রায় সাত মাস ধরে তারা রাজশাহী নগরীতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার থেকে নগরীতে অবস্থান নেয় বাগমারা থানা পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েক দফা অবস্থান পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে নগরীর একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে মামলা হওয়ার পর থেকেই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছিল পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি আঁখি গ্রেপ্তার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।