দেশজুড়ে এখনো হামের প্রকোপ বিদ্যমান। আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে দিশেহারা অভিভাবকেরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। যদিও আশা করা হচ্ছে যে খুব শীঘ্রই এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তবে সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে এ বছর হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, মিজলস ভাইরাস হলো হাম রোগের মূল কারণ, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি কিংবা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত সংক্রমণের ৮ থেকে ১২ দিনের মধ্যে হামের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া বা কনজাংটিভাইটিস। এছাড়া মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট) এবং মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত শিশু হাঁচি বা কাশি দিলে বাতাসে থাকা ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। লক্ষণ প্রকাশের চার দিন আগে থেকে শুরু করে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত শিশু সংক্রামক থাকে।
এই রোগের মূল চিকিৎসা হলো যথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সেবন। রোগের তীব্রতা কমাতে বয়স অনুযায়ী পরপর দুই দিন উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। তবে শিশু গুরুতর অসুস্থ হলে, খাবারে অনীহা দেখা দিলে, ঘন ঘন বমি, শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে হামের টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং ১৫ মাস বয়সে মোট দুই ডোজ টিকা প্রদান করতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত হাত-মুখ ধোয়া এবং চোখে হাত না দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা এবং শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন তাকে আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বর ও ফুসকুড়ির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র: অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা।