ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ চতুর্থ দিনে গড়ানোর কারণে জ্যামাইকা কিংসমেন দলের হয়ে সিপিএলে খেলার সুযোগ পেতে বিলম্ব হচ্ছে পাক ওপেনার সাইম আইয়ুবের। আগে দুটি টেস্ট তিন দিনে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল বলে, সেই হিসাবে সাইমের বার্বাডোসে ফেরার বিমানের টিকিট কেটে রেখেছিল ক্যারিবীয় দলটি। তবে সতীথ রাজাউল্লাহর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচের সময়সীমা বাড়ায় এই পরিকল্পনা বাতিল হয়।

জিও সুপারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাজ্য থেকে বার্বাডোসে যাওয়ার জন্য সাইমের টিকিট ছিল। জ্যামাইকা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি নিয়েছিল শর্তসাপেক্ষে, যেখানে ম্যাচ তিন দিনের মধ্যে শেষ হওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু ম্যাচ চলতে থাকায় জাতীয় দলের সঙ্গেই থাকতে হয়েছে বাহাত এই ওপেনারকে, যার ফলে তার যাত্রা অন্তত এক দিন পিছিয়ে গেছে।

ম্যাচের শুরুতেই দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ১৩৩ রানের জবাবে ইংল্যান্ড করে ৪৫৩ রান। ফলে ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে সফরকারীরা। কিন্তু শেষ দিকে অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর ৮১ রানের ইনিংস পরিস্থিতি বদলে দেয়। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে তাঁর ১২১ রানের জুটিতে পাকিস্তান পৌঁছে যায় ৪৪৯ রানে। এরপর ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে নামতে হয় ১৩০ রানের লক্ষ্য নিয়ে।

শেষ পর্যন্ত শনিবার চতুর্থ দিনে আট উইকেটে জিতে সিরিজে পাকিস্তানকে ৩–০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে ইংল্যান্ড। রাজাউল্লাহর প্রতিরোধ দলের হার ঠেকাতে পারেনি, তবে ম্যাচটি আরও এক দিন টেনে নিয়েছে। আর তাতেই জ্যামাইকার ভ্রমণসূচির হিসাব মেলেনি।

সিপিএলে ভালো ছন্দেই ছিলেন সাইম। কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে দ্বিতীয় টেস্ট হারের পর দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। তখন ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট দলে যোগ দেন তিনি। এর কয়েক দিন আগেই জ্যামাইকার হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এজবাস্টনে অবশ্য সেই সাফল্যের ধারেকাছেও যেতে পারেননি। দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হন সাইম। বল হাতেও পাননি উইকেট।

সাইমকে ছাড়াই এরপর বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের মুখোমুখি হয় জ্যামাইকা। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে ৯ উইকেটে ১৫০ রান করেও শেষ বলে দুই উইকেটে হেরেছে তারা। তবে হারের পরও সেন্ট লুসিয়া কিংসকে নেট রানরেটে পেছনে ফেলে চতুর্থ দল হিসেবে প্লেঅফে উঠেছে জ্যামাইকা। ফলে সাইমের ফেরার অপেক্ষার মধ্যেই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার স্বস্তি পেয়েছে দলটি।