বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছর ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে উত্থাপিত রিটটি খারিজ করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ দেন।
আদালতের কার্যতালিকায় ১১৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠা রিটটি বিবেচনা শেষে খারিজ করা হয়। আদালতে জানা যায়, রিট আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আইনজীবী মো. নুরনবী বুলবুল ও মোহাম্মদ ইউনুছ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
শুনানির সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী জানান, রিট আবেদনটি যথাযথভাবে দায়ের করা হয়নি বলে আবেদনকারীর পক্ষ তা আদালতে উপস্থাপন করেনি। একই সাথে তিনি বলেন, "রিট আবেদনটি যথাযথভাবে হয়নি উল্লেখ করে তা না উপস্থাপন করার কথা জানায় রিট আবেদনকারীপক্ষ।" এরপর আদালত রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
এর আগে গত বছরের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
উক্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর নিবাসী মো. আল আমিন ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের প্রার্থনায় ২০২৫ সালের ১২ মার্চ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা নিয়ে রুল জারি চাওয়া হয়েছিল। রুল জারির পরও প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টিও রিটে উল্লেখ করা হয়েছিল।