জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের শাসনামলে পুলিশ অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারকে খুশি করতে এবং নিজেরা অর্থ উপার্জনের জন্যই পুলিশ এই পথ বেছে নিয়েছিল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছে ৬৮৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা। গত ১৭ বছর পুলিশ অত্যাচারী ছিল। সারা বাংলাদেশে তারা কী অত্যাচার-নিপীড়ন করেছে, তা আপনারা জানেন। আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি করার জন্য এবং নিজেদের দুই পয়সা বানানোর জন্য তারা এসব করেছে।"
তিনি আরও মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন পদে থাকা অনেক ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর দেশের বিচারপতি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরাও পালিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্পিকার বলেন, "কিছুদিন আগে আপনারা আইজিপি বেনজীর আহমেদের কাহিনি দেখেছেন। সে কত বড় চোর। বাংলাদেশের জায়গা-জমির একটা বিরাট অংশ সে নিজের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যার নামে লিখে নিয়েছে। বনাঞ্চল নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে। কত যে বাড়িঘর তার আছে, তার কোনো সীমা নেই।"
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ‘দুঃশাসনে’ দেশে মাদক ছড়িয়েছে। তার দাবি, আগে দেশে মাদক, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি ছিল না।
ধর্মগ্রন্থে সীমালঙ্ঘন না করার নির্দেশ থাকায় স্পিকার বলেন, সীমালঙ্ঘনকারীর শাস্তি ভয়াবহ। তিনি যুক্তি দেখান, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সীমালঙ্ঘন করেছেন। তাদের কেউ ধরা পড়েছেন, আবার কেউ পালিয়ে গেছেন।
"যারা পালিয়ে যেতে পেরেছেন, তারা মনে করছেন এভাবেই জীবন কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু ইহকাল ও পরকাল—উভয় জায়গাতেই তাদের শাস্তি রয়েছে," বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাজিনুর ইসলাম কবির হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।