বরিশাল নগরীর দৈনিক সমকালের কার্যালয়ে নিথর অবস্থায় পাওয়া গেছেন সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্যারারা রোডের অফিস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল প্রেসক্লাবে এবং পরে কাউনিয়া মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তার।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রেসক্লাবে জড়ো হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে বিদায় জানান। সিটি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন, প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানেন। এরপর মরদেহ কালীবাড়ি রোডের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী প্রিয়াংকা, একমাত্র মেয়ে প্রকৃতি ও স্বজনদের কান্নাজড়িত পরিবেশ বিরাজ করে।

সাংবাদিকতা জীবনে দীর্ঘ সময় দৈনিক সমকালে কাজ করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি বরিশাল ব্যুরো প্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তিনি কর্মহীন ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী, মেয়ে, ভাই, দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ্যে পৃথক পাঁচটি চিরকুট রেখে যান। এসব চিরকুটে ব্যক্তিগত বিষয় ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার অনুরোধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরী বলেন, "পুলক দাদা নিয়মিত অফিসে আসতেন, পত্রিকা পড়তেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। অফিসের একটি বিকল্প চাবিও তার কাছে ছিল। শুক্রবার দুপুরেও তিনি ফোন করেছিলেন। পরে বিকেলে অফিসে গিয়ে তাকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়।"

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, "পুলক দাদার সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। তার রেখে যাওয়া চিরকুটেও পরিবারের প্রতি বিভিন্ন অনুরোধের কথা উল্লেখ ছিল।"

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও বিস্তারিত জানা যাবে।